08-06-2016
PGCB & SIEMENS Agreement to Construct HVDC 2nd Block


ভারত থেকে আসবে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ\r\n--------------------------------------------------\r\nকুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানী করবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ওই কেন্দ্রে এইচভিডিসি ২য় ব্লক নির্মাণ করছে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি)। নির্মাণ কাজের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে পিজিসিবি এবং সিমেন্স এজি (জার্মানী) এর মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই নির্মাণ কাজ শেষ হবে।\r\n\r\nচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।\r\n\r\nবিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। বিদ্যুৎ আমদানী শুরু ও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি এই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করছে।\r\n\r\nএইচভিডিসি ২য় ব্লক নির্মাণ ও চালু হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানীর মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১১০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে ভারত থেকে দুটি আন্তঃদেশীয় গ্রীড সংযোগের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানী করা হচ্ছে। ভারতের বহরমপুর থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে এইচভিডিসি ১ম ব্লকে ৫০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা হয়ে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানী চলছে। নতুন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উম্মুক্ত টে-ার পদ্ধতিতে ভারতের খোলা বাজার থেকে কিনবে বাংলাদেশ।\r\n\r\nচুক্তি স্বাক্ষর পর্বে পিজিসিবি’র পক্ষে কোম্পানী সচিব মোঃ আশরাফ হোসেন এবং সিমেন্স এর পক্ষে উলফগ্যাং রিচার্ড ক্লেয়ার (ডড়ষভমধহম জরপযধৎফ কষধবৎ) ও ম্যানুয়েল হেইজার (গধহঁবষ ঐবরফমবৎ) চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।\r\n\r\nঅনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী দুই বছরের মধ্যে সিমেন্স এজি ভেড়ামারায় এইচভিডিসি ২য় ব্লক নির্মাণকাজ শেষ করে পিজিসিবি’র কাছে হস্তান্তর করবে। এ কাজে ব্যয় হবে ১,১১২.৮ কোটি টাকা।\r\n\r\nভারতের খোলা বাজার থেকে সংগৃহীতব্য ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে উত্তোলন ও সঞ্চালন করবে পিজিসিবি। আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানীর ফলে দেশে বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে ও বর্ধিত চাহিদা পূরণ করা যাবে।\r\n\r\nচুক্তি স্বাক্ষর পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন পিজিসিবি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম-আলবেরুনী। অন্যান্যের মধ্যে সিমেন্সের সিইও মিরকো ডুজেল (গরৎশড় উঁংবষ), পিজিসিবি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল্লাহ ও পরেশ চন্দ্র রায়, প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, প্রকল্প পরিচালক কিউ এম শফিকুল ইসলাম সহ উভয় পক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।\r\n\r\n২০১০ সালের জানুয়ারী মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেন। ওই সময় বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে উভয় দেশের মধ্যে একটি যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ১১ জানুয়ারী বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।\r\n\r\nসমঝোতা স্মারকের অনুবৃত্তিক্রমে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিঃ (পিজিসিবি) কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এইচভিডিসি প্রযুক্তির ‘বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র’ নির্মাণ করেছে। গত ০৫ অক্টোবর, ২০১৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত প্রথম বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানীর ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।\r\n\r\nগত ২৩ মার্চ ২০১৬ তারিখ বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মি. নরেন্দ্র মোদী এবং ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় গ্রীড আন্তঃসংযোগের সূচনা করেন।